ব্রেইন স্ট্রোক হলে করনীয় এবং এর চিকিৎসা...
স্ট্রোক কোনো এক মানুষের জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি এক সময়। এতে রোগী মৃত্যুর দিকে টোলে পড়েন । সচরাচর যে স্ট্রোক গুলো হয়ে থাকে তার মধ্যে মস্তিষ্কের শিরায় রক্ত জমে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার যাওয়ার ঘটনাটি অতি পরিচিত। এর দ্বারা মস্তিষ্কের ওই শিরার কাছের কোষগুলো মারা যেতে থাকে। তবে বর্তমানে এই রোগের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যাবস্থা রয়েছে। স্ট্রোক দেখা দিলেই অতি দ্রুত নিউরোলজিস্টকে দেখাতে হবে।
মস্তিষ্কের রক্ত জমাট বাঁধা স্ট্রোকের মধ্যে একটি চিকিৎসা হলো ‘থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি’, । এতে দ্রুত মস্তিষ্কের জমাট বাঁধা রক্ত গলে গিয়ে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে আসে। স্ট্রোকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি এই থেরাপি দেওয়া হয় তাহলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কম হয় এবং প্যারালাইসিস বা দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা তৈরির বিষয়গুলো অনেকাংশে কমে যায়।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের নিকট স্ট্রোকের রোগী আসলে তারা লক্ষণ দেখামাত্রই দ্রুত চিকিৎসা দেন এবং ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে আগে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানারে রোগীর মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়। সাধারণত সিটি স্ক্যান করা হয় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ প্রয়োগে রোগীর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য সিটি স্ক্যানের বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোকের রোগী চেনার জন্য চিকিৎসকদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায় , চিকিৎসায় সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবহেলাও করে বসেন। এর মধ্যে একটি হলো মানসিক সাহায্য। গবেষণায় দেখা গেছে , স্ট্রোকের রোগীর সাথে তাঁর সঙ্গে বন্ধু, স্বজন বা পরিবারের সদস্যদের থাকা জরুরি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকের রোগীকর একাকী অবস্থার তুলনায় স্বজনদের সঙ্গে এলে তাঁর অবস্থা কিছুটা ভালো থাকে। স্ট্রোকের রোগীর সাথে দুজনের বেশি উপস্থিত থাকলে তাঁর চিকিৎসা সঠিকভাবে হয় পাশাপাশি সিটি স্ক্যানও দ্রুত করা যায়।
গবেষক ইফারজেনের মতে , আত্মীয় -স্বজনদের কিছুটা অতিরিক্ত যত্ন ওসাহায্য রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে অনেকখানি সময় বাঁচিয়ে দেয়। ইফারজেন বলেছেন , ‘আমরা স্ট্রোকের রোগীদের সাথে এখন দুজনকে আসার অনুমতি দিচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের একা আসার পরিবর্তে আত্মীয় স্বজনসহ উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি

No comments:
Post a Comment