দাঁতের ক্ষয়রোধের উপায়...
দাঁত হলো মানুষের আসল সৌন্দর্য। প্রিয়ার মুখের হাসিতে আপনার মন ভালো হয়ে যায় । কিন্তু সেই হাসিই যদি হতো দাঁত ছাড়া তবে কেমন হতো একবার ভাবুন !
দাঁত তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় মানুষের জন্মের আগে থেকেই। ভ্রুনের ৬ সপ্তাহ বয়সেই গর্ভাবস্থায় দাঁত তৈরি শুরু হয়। তবে আমাদের মাড়ির ভেতর থেকে দাঁত বেরিয়ে আসে ৬ মাস বয়সে।একে সাধারণত আমরা বলে থাকি Deciduous teeth /Milk teeth অথবা দুধ দাঁত।
সাধারণত milk teeth বা দুধ দাঁত থাকে ২০ টার মতো।
একসময় এই দাঁতগুলো পড়ে গিয়ে Permanent teeth বা ভাতের দাঁত আসে। দাঁত পড়া শুরু করে ৬-৭ বছর বয়সে। অন্যদিকে
স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা হলো মোট ৩২ টি দাঁত।
দাঁতের ক্ষয় রোগ
ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় এর প্রভাবে অনেকেই দাঁতের ব্যথায় ভুগে। এই রোগটি অনেকেই দাঁতের পোকা হিসেবে জানেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে বলতে গেলে এর কোনো ভিত্তি নেই। মত প্রকার দাঁতের রোগ আছে সেগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কয়েক কারণে এই রোগ হতে পারে
• দাঁতের ফাঁকে খাবার জমলে।
• ক্যারিজ উৎপন্ন করে এমন জীবাণু।
• দীর্ঘদিন রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট জাতীয় বা চিনিজাতীয় খাবারের জন্য।
• বেশিদিন ধরে যদি উপরের তিনটা কারণ একই সঙ্গে চলতে থাকে।
ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়ের শুরুতে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না গেলেও গর্ত বড় হয়ে গেলে শিরশির অনুভূতি হতে পারে।
পরবর্তীতে এ গর্ত আরও বড় হয়ে মজ্জার কাছাকাছি চলে যায়। আর ঠিক তখন থেকেই শুরু হয় ব্যথা। তার প্রভাবে কান, মাথা ও চোখসহ ব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসা
চিকিৎসার মাধ্যমে আসলে এই গর্ত ফিলিং করেই ক্যারিজের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এতে রোগীর কষ্ট কম হয় এবং খরচও কম লাগে।
আসলে এ সময় অধিকাংশ রোগীই ব্যথানাশক ওষুধ ব্যাবহার করতে থাকেন। এতে কিছুদিন আরাম পেলেও পরবর্তীতে শুরু হয়ে যায় প্রচণ্ড ব্যথা। কেউ কেউ এই অবস্থায়ও অ্যান্টিবায়োটিক আর ব্যথার ওষুধ একসঙ্গে চালাতে থাকেন।
দাঁতের খুব বেশি ক্ষতি হয়ে গেলে অর্থাৎ দাঁতটি মৃত হয়ে গেলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার দ্বারা রোগটি উপশম করা যায়। অনেকেই এমন অবস্থাতেও চিকিৎসা করেন না বরং শুধু অ্যান্টিবায়োটিক আর ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। এতে এক সময় ব্যথা কমে গেলেও ডেন্টাল ক্যারিজ থেমে থাকে না। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জীবাণুর সংক্রমণে পচে যায় দাঁতের মজ্জা। একসময় পচা অংশগুলো দাঁতের গোড়া থেকে হাঁড়ের মধ্যে চলে গিয়ে সেখানে পুঁজ তৈরি করে যা তীব্র ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়ায়। এবং তা তা কোনো ওষুধেই কমে না।
এ সময় দাঁত রুট ক্যানেল চিকিৎসার দ্বারা সারিয়ে তোলা যায়। আবার অনেকেরই দাঁত তুলে ফেলে দিতে হয়।
তারা এমন অবস্থাতেও ডেন্টিস্টের কাছে আসেন না তাদের দাঁত ধীরে ধীরে মাড়ির সাথে মিশে যায় এবং এ সময় ব্যাথা হলে তারা ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন।
এতে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে:
• লাডউইগ্স অ্যান্জাইনার মাধ্যমে পুঁজ জমে রোগীর গলা ফুলে যেতে পারে। উপযুক্ত চিকিৎসা না করালে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে রোগী মৃত্যুবরণ করতে পারে।
• সিস্ট, টিউমার, ক্যান্সার ইত্যাদি হতে পারে।
দাঁতের যত্নে কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন
• ভিটামিন-এ
মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ভিটামিন-এ এবং এটি মুখের লালার প্রবাহকে ঠিক রাখে। ভিটামিন-এ পাওয়া যায় শাকসবজি, গাজর, আম, মিষ্টিআলু, মাছের তেলে।
• ভিটামিন-সি
ভিটামিন-সি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে দাঁতকে রক্ষা করে । পাশাপাশি তা মাড়িকেও মজবুত রাখে। জাম্বুরা ও লেবুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি
• ভিটামিন-ডি
ভিটামিন-ডি স্বাস্থ্যকর হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী। মজবুত মাড়ি গঠনে ভিটামিন-ডি দরকার। উপযুক্ত ভিটামিন-ডি মাড়ির রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সূর্যের আলোতে রয়েছে ভিটামিন ডি। এ ছাড়াও দুধ , ডিম ইত্যাদিতে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়।
•ভিটামিন-কে
আমাদের শরীরের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে ভিটামিন-কে । এর অভাবে মাড়িতে রক্তপাত হতে পারে। সয়াবিন, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদিতে এটি পাওয়া যায়।

No comments:
Post a Comment