হার্ট অ্যাটাক হলে করনীয়...
হার্ট অ্যাটাক হলো মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। গবেষণায় দেখা গেছে সারা বিশ্বে এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যুর জন্যে দায়ী হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ।
অনেক সময়ই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক উপসর্গগুলো আমরা বুঝতে পারি না ।
অথচ চিকিৎসকেরা বলে থাকেন , হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব যদি আমরা প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি ।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা থেকে জানিয়েছেন , আমরা যদি যদহৃদরোগের প্রাথমিক উপসর্গ খেয়াল না করি তবে তার ফল কেবল মৃত্যু নয় বরং বেঁচে থাকলেও অনেক জটিলতা নিয়ে বাঁচতে হয়।
প্রাথমিক উপসর্গ সমূহ
•বুকে ব্যথা অথবা চাপ চাপ ব্যথা, বুকের এক দিকে বা সম্পূর্ণ বুক জুড়ে ভারী ব্যথা।
• বুকে ব্যথা ছাড়াও শরীরের অন্য অংশে ব্যথা অনুভব হতে পারে এবং ব্যথা শরীরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে, যেমন হতে পারে বুক থেকে হাতে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত বাম হাতে সর্বোচ্চ ব্যথা হয়, কিন্তু দুই হাতেই ব্যথা অনুভব হতে পারে।
•মাথা ঝিমঝিম করা বা মাথা ঘোরা।
• অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
• নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা।
• বমি বমি ভাব হওয়া।
• বুক ধড়ফড় করা অথবা বিনা কারণে অস্থির লাগা।
• প্রায়শ সর্দি বা কাশি হওয়া।
হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ গুলো পুরুষ ও নারী ভেদে আলাদা হয়ে থাকে। নারী অথবা পুরুষ সবার ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষন হলো বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি। কিন্তু নারীদের পুরুষের তুলনায় অন্য লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়, যেমন ছোট ছোট শ্বাস, বমি ভাব, চোয়ালে বা পিঠে ব্যথা। আবার কেউ কেউ বুকে ব্যথা অনুভব করেননা , বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
চিকিৎসকদের মতে , বুকে ব্যথা , অজ্ঞান ওনিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার হয়ে মত ঘটনা সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে হয়।
হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের কারন
আমাদের হৃদপিণ্ডে প্রবাহিত হওয়া রক্ত হৃদযন্ত্রে আসে ধমনী দ্বারা। কিন্তু তা যদি সরু হয়ে যায় তবে নালীর ভেতরে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে।
যার কারণে নালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া স্বরুপ হৃদযন্ত্রের পেশীগুলো দুর্বল হতে থাকে , তখন সেটা অক্সিজেন প্রবাহিত করতে পারে না। ঠিক তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। কারন হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে হৃদপিণ্ডের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহিত না হতে পারলে
হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয়
হার্ট অ্যাটাক হওয়ামাত্র দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের কোনো এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, কোনো রোগীর চিকিৎসা পেতে এক ঘণ্টা দেরি হলে সেই রোগীর মৃত্যুর হার বেড়ে যায় ১০ শতাংশ । তাই রোগীকে অতি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে ।
•হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে তাৎক্ষণিক শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন পাশাপাশি গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন ।
• রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন ।
• রোগীর বমি আসলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। এতে সে সহজেই বমি করতে পারবেন।ফলে ফুসফুসের মতো বিভিন্ন অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে রক্ষা পাবে।
হার্ট অ্যাটাক ঠেকানোর উপায়
• হাঁটা-চলা ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। পাশাপাশি খাবার ও জীবনযাপনে যথেষ্ট পরিবর্তন আনতে হবে,
• উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
• নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে ।
• ধূমপান পরিহার করতে হবে ।
• মাঝে মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।
ধন্যবাদ!!

No comments:
Post a Comment