ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ডায়াবেটিস নয় !
ঘন ঘন প্রসাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার
ঘন ঘন প্রস্রাব অথবা বারবার বাথরুমে যাওয়া—এই উপসর্গ দেখা দিলে সবাই শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার মানে কি ডায়াবেটিস হয়ে গেছে?
বয়স্ক ব্যক্তিদের বারবার বাথরুম যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। গর্ভবতী নারীরাও এ সমস্যায় ভোগে থাকেন। জেনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ হলেও ঘন ঘন বপ্রস্রাব অন্যান্য সমস্যায়ও হয়ে থাকে ।
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি দিনে চার থেকে আটবার মূত্রত্যাগ করেন। পরিমানের মাত্রা যা-ই হোক না কেন, দিনে আটবারের বেশি প্রস্রাব করলে তাকে ঘন ঘন প্রস্রাব হিসেবে গণ্য করা যায়।
বিভিন্ন বয়সে প্রস্রাবের স্বাভাবিক পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু কোনো পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রস্রাবের পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় তিন লিটার অথবা এর অধিক হলে তা অস্বাভাবিক এবং একে পলিইউরিয়া বলে গণ্য করা হয়।
ঘন ঘন প্রস্রাব বা অধিক পরিমাণ প্রস্রাব—উপসর্গ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক সময়েই এ দুটো একসঙ্গে দেখা যায়। কারন প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে গেলে প্রস্রাব ঘন ঘন হয়ে থাকে।
তবে অনেক সময় ঘন ঘন প্রস্রাবের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় শুধু অধিক বা অস্বাভাবিক পরিমাণে পানি বা পানীয় গ্রহণ। একে সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া বলা হয়ে থাকে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রস্রাব হতে পারে।
যেমন: অতিমাত্রায় পানীয় অথবা অ্যালকোহল সেবন, , শীতকালে যখন ঘামের পরিমাণ কমে যায়, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ , প্রস্রাব বৃদ্ধিকারক ওষুধ সেবন ইত্যাদি।
ঘন ঘন বা অধিক প্রস্রাবের কারণ সমূহ
ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্য যেসব কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়ে থাকে
• মূত্রনালি বা মূত্রথলির সংক্রমণে।
• গর্ভকালীন এর প্রথম ও শেষ দিকে।
• বয়স্কদের প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যায়।
• স্ট্রোক ছাড়া ও অন্যান্য স্নায়ুরোগ, মূত্রথলির স্নায়ুবিকলতা, মূত্রথলির ক্যানসার ইত্যাদি।
• মস্তিষ্কের টিউমার, বিকিরণ, সার্জারি, আঘাত, কিডনি রোগ ইত্যাদি কারণে মূত্র নিয়ন্ত্রক এডিএউচ হরমোনের অভাব অথবা অকার্যকারিতা দেখা দেয়।
• থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য।
• রক্তে ক্যালসিয়াম বা পটাশিয়ামের তারতম্য।
• ঘন ঘন প্রস্রাব অথবা অধিক পরিমাণ প্রস্রাব কোনো রোগ নয় এটি রোগের উপসর্গমাত্র। এর ফলে শরীরে পানির ভারসাম্যহীনতা, পানিশূন্যতা,লবণের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ সমস্যায় আক্রান্ত হলে ডায়াবেটিস এর পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

No comments:
Post a Comment