সাপে কামড়ালে কি করবেন...
সাপের কামড় জীবন নাশক একটি প্রসঙ্গ। এর স্বীকার হয়ে দেশে প্রতি বছর বহু লোক মারা যায়। সারা বিশ্বে কমপক্ষে ৪-৫ বিলিয়ন লোক সাপের কামড়ের স্বীকার হয়। তন্মধ্যে মৃত্যুর পরিমাণ প্রায় ৪৫,০০০ । কোনো কোনো সাপের কামড়ে শতকরা ৪৫ জন রোগীর দেহে কোনো লক্ষণ দেখা যায়না।তবে কোন কামড় আপনার জীবনকে বিপন্ন করবে তা ঠিক বলা যাবে না। তাই সাপে কামড়ানো সকল রোগীকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।
সাপে কামড়ানো রোগীর কাছে ৩ টি বিষয় জেনে নিতে হবে
• কোথায় কামড়িয়েছে
•কতক্ষন আগে
• কি সাপ
রোগীর দেহে ঠিক কতটুকু বিষ প্রবিষ্ট হয়েছে তা নির্ভর করবে সাপ কত আগে কামড়িয়েছে এবং কামড়ানোর সময় কত রেগে ছিল।
রোগীর লক্ষণ
• মাথা ঘোরা, ঘাম বের হওয়া, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া।
•বমি বমি ভাব ও পেটে ব্যথা।
•দংশনের স্থানে দুটি দাঁতের দাগ স্পষ্ট দেখা গেলে বুঝে নিতে হবে এটা বিষধর সাপ
নির্নয়
•সাপের বিষ ডিটেকশন কিট দিয়ে ভেনম নির্নয় করা যায়।
•রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়।
• ইসিজি তে এরিদমিয়া , এভি ব্লকসহ অনেক পরিবর্তন আসে।
করনীয়
• দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন এবং অতঃপর ডাক্তারি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
•হাতে অথবা পায়ে কামড়ালে অথবা অন্য কোনো জায়গায় কামড়ালে সম্ভব হলে অতি দ্রুত ক্ষতস্থানটির উপরে কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাধতে হবে। এতে বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হবে না
•তারপর ক্ষত স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে মরিচা ও জীবাণুমুক্ত ব্লেড দ্বারা ক্ষতস্থানটি সামান্য কেটে টিপে রক্ত বের করতে হবে
•মুখ দিয়ে রক্ত চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না
•এরপর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। জাদুটোনা বা ঝাড়-ফুক থাকে বিরত থাকুন। কারন এটা ভুল চিকিৎসা পদ্ধতি।
•এসব রোগীর একসাথে অনেকগুলো মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হয়। তাই হাসপাতালে রোগীর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
• কিডনী, হার্ট এবং রক্তের সকল অস্বাভাবিকতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
•প্রয়োজন অনুসারে রোগীকে অনেক চিকিৎসা দিতে হবে। তবে ব্যাথার তাগিদে অ্যাসপিরিন দেওয়া যাবে না। কারন এতে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাবে
•যথার্থ সতর্কতাপূর্বক অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ সফলতা পাওয়া যায়

No comments:
Post a Comment